আমার জীবনের স্মরণীয় দিনগুলি

দুবছর আগের কথা, তখন আমার সব স্কুল বন্ধুরা মোবাইল ব্যবহার করত। এমনকি কখনো কখনো স্কুলেও নিয়ে আসতো। যা দেখে আমার খুব খারাপ লাগতো। মনে মনে ভাবতাম আমার যদি একটা মোবাইল থাকত। আমিও ওদের মতো স্কুলেও নিয়ে আসতে পারতাম।

এসব কথা ভাবতে ভাবতে কখন যে আমার জেএসসি পরীক্ষা চলে আসল তাও জানি না। কিন্তু আমি এসব পরিক্ষা নিয়ে চিন্তা না করে, কীভাবে একটা মোবাইল পাওয়া যায় তা নিয়ে শুধুই ভাবতাম। একদিন আমি সাহস করে আম্মুকে বলে ফেললাম, যে আমাকে যেন একটা মোবাইল কিনে দেন। তা শুনে আম্মু সঙ্গে সঙ্গেই বলে উঠল, কি বললি ‘হারামজাদা’ পড়ালেখায় মন না দিয়ে মোবাইল? তখন অনেক কষ্ট পেয়ে আমার রুমে এসে কাঁদতে থাকলাম।

পরে দেখি আব্বু বিষয়টা জেনে গেল, কি যে হবে এবার? কি হবে আবার! আবারও বকা শুনতে হবে আব্বুর কাছ থেকে। মনে হয় আমার জিবনে মোবাইল নামের ডিভাইসটা নাই। দুদিন পর আমার জেএসসি পরীক্ষা। মামা আসতেছে আমাকে পড়ানোর জন্য তখন আমার একটা বুদ্ধি আসল মাথায় যদি মামাকে বলা যায় এ ব্যাপারে।

এসব ভাবতে ভাবতে দরজায় কলিং বেল বেজে উঠল, গিয়ে দেখি মামা। কথা হওয়ার পর মামার সাথে ফুর্তি করে দুপুরবেলার খাবার খেলাম। সাহস করে বলে ফেললাম তবে মামাকে যেমনটা ভেবেছিলাম আসলে তেমন না। সম্পূর্ণ বিপরীত আম্মু আব্বুর মতো মোবাইল এর কথা শুনার পরে রেগে গেলেন। সেই সময়ে আমি রেগে রাতের খাবার না খেয়ে শুয়ে পড়লাম। কিছুক্ষণ পর দেখি মামা আমাকে ডাকতে থাকল। উঠে দেখি মামার সাথে আব্বু আম্মুও আছে। তখন মামা বলল তোর মোবাইল চাই?

আমি : হুম চাই তো।
মামা : দিব। তুই যদি আমাদের একটা সারপ্রাইজ দিতে পারিছ?
আমি : কি সারপ্রাইজ?
মামা : যদি এবারের জেএসসি পরীক্ষায় উপজেলা ফাস্ট হতে পারিছ।
আমি : হুম, রাজি।
মামা : ওকে।
আম্মু : আয়, খেতে আয়।
আমি : হুম চলো।

আগামীকাল আমার ইংরেজি পরীক্ষা। তাই মামার সাথে তাড়াতাড়ি উঠে মামার সাহায্যে সারাক্ষণ পড়লাম। এখন আমার একটাই টার্গেট উপজেলা ফাস্ট হওয়া। রাতে পড়তে পড়তে কখন যে ঘুমিয়ে পড়লাম, তা নিজেও জানি না। সকালে দেখি মামা ডাকতেছে উঠে কিছুক্ষণ পড়ে, পরিক্ষা দেওয়ার জন্য মামার সাথে রওনা হলাম। পরীক্ষা শেষ করে মামার সাথে বাসায় ফিরে আসলাম। এভাবে শেষ হয় আমার জেএসসি পরীক্ষা। পরীক্ষার পরে মামার কাছ থেকে আমি অনলাইন ভিত্তিক সব যাবতীয় কাজগুলা শিখে নিলাম।

কখন থেকে মামা মামা করতেছি, মামার পরিচয়টাই তো দেওয়া হলো না। আমার মামার নাম রাহাত। তিনি এখন বুয়েটের ছাত্র।

২৮ শে ডিসেম্বর আমার পরীক্ষার ফলাফলের দিন। ফলাফলের অপেক্ষা থাকলাম। আল্লাহর কাছে শুধুই একটা প্রার্থনা করতেছি যেন উপজেলার প্রথম হতে পারি। দুপুর দুইটা ফলাফল প্রকাশ হয়েছে। আলহামদুলিল্লাহ, মামার কাছ থেকে শুনেছি আমি গোল্ডেন এ-প্লাস পাইছি। আমি স্কুলে গিয়ে শুনি সেই সাথে আমি উপজেলা ফাস্ট হয়েছি। তবে পরে স্যারের কাছে জানতে পেলাম আমি জেলাতে সেকেন্ড হয়েছি এবারের জেএসসি পরিক্ষায়। বলতে গেলে তখন আমি খুশিতে মাতাল হয়ে গেছিলাম।
ঐদিন রাতে মামা তার কথামতো আমার জন্য নতুন মোবাইল কিনে আনছে। পরে দেখি আব্বুও আমার জন্য নতুন একটা ল্যাপটপ কিনে এনেছিল জেলা সেকেন্ড হওয়ার জন্য। নতুন মোবাইল, নতুন ল্যাপটপ! এগুলো দেখে সেদিনে মোবাইল না পাওয়ার সব কষ্ট ভুলে তখন খুশিতে আমার গান চলে এসেছিল।

সেইদিনই পরে মামার সাহায্য নিয়ে আমি একটা ফেসবুক একাউন্ট খুলি। পরে মামা ফেসবুক ব্যাপারে সবকিছু বুঝিয়ে দেন। আমি মামার দেখানো সাহায্যে ফেসবুক চালাতে থাকি। একদিন ভুলে জাহান নামের এক অচেনা ব্যক্তির কাছে আমার ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট চলে যায়। পরে দুই থেকে তিন দিন পর দেখি, ওনি ফ্রেন্ড রিকুয়েস্টটা গ্রহণ করেছেন। কয়েকদিন পর আমিই দিলাম, দেখি সঙ্গে সঙ্গে ম্যাসেজ এর প্রতি উত্তর। অনেকক্ষণ ম্যাসেজ এ কথা বলার পর আমিই বলেছিলাম ফ্রেন্ড হবেন কিনা? তখন তিনি বলেছিলেন এতে তার কোনো দ্বিমত নেই। তারপর থেকেই প্রতিনিয়ত আমরা মেসেজে কথা বলতাম। সেই ব্যতিক্রম ফেসবুক বন্ধুকে নিয়ে আরেকদিন বলব।

লেখক: মো: আরমান
শিক্ষার্থী, দশম শ্রেণি, পেকুয়া সরকারি মডেল জি এম সি ইনষ্টিটিউশন, কক্সবাজার

“ভয়েস অফ হ্যালো”র ফেসবুক ক্লিক করুন
“ভয়েস অফ হ্যালো”র ইউটিউব ক্লিক করুন

[শিশুরাই তুলে ধরবে শিশুদের অধিকারের কথা, আপনিও লিখুন আপনার কথা। লেখা পাঠানোর ঠিকানা [email protected]]

Comments are closed.